মায়ের কোলের অভাবে জীবন সংশয়ে দুধে শিশু
সত্যজিৎ চক্রবর্তী, হাবড়া
কোলের অভাবে জীবন সংশয়ে সদ্যজাত । অশোকনগর শিশু পাচার কান্ডে উদ্ধার শিশুকে নিয়ে চিন্তিত হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
গত ১৫ই ভিসেম্বর ফের সামনে আসে অশোকনগর শিশু পাচার কান্ড। গ্রেফতার হওয়া নাসিংহোম মালিক সহ পাঁচজন ইতিমধ্যে জেলে রয়েছেন। এদিকে একরত্তির শিশুটির অবস্থা সংকটে। অন্ধকার ভবিষ্যৎ তৈরি হচ্ছে এসএনসিউতে থাকা শিশুটি। পুলিশ গর্ভধারিণী মায়ের খোঁজ দিতে না পারায় তৈরি হয়েছে এই জটিলতা।
হাবড়া হাসপাতালে সুত্রের খবর, শিশুটি এই মুহুর্তে শিশু বিভাগের এসএনসিউতে চিকিৎসাধীন । সুপার শঙ্করলাল ঘোষ জানান শিশু যখন হাসপাতালে আসে তখন বয়স ছিল বারো দিন। তাই এসএনসিউ তে রেখেছি কিন্তুু আঠাশ দিনের বেশী রাখতে পারবো না।শিশুর এখন মায়ের কোল প্রয়োজন ।
সুপারের কাছে প্রশ্ন ছিলো নিয়মানুসারে তো শিশুর থাকা উচিত কোন সরকারী হোম কিংবা নিয়ম মেনে কোন মায়ের কাছে। কিন্তুু হাসপাতালে কেন ?
জবাবে সুপার জানান সরকারী সব দপ্তরে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি । এখনও কোনও দপ্তর থেকে যোগাযোগ করেনি তার সাথে। সুপার শঙ্করলাল ঘোষের কথায় আগামী দিন শিশুর খুব কষ্টের দিন আসছে। কারণ, কোনও সুস্থ শিশুকে আঠাশ দিনের বেশী এসএনসিউতে রাখা যায়না। বাধ্য হয়ে তাকে শিশু বিভাগে আনতে হবে। যেখানে অনান্য শিশুরা থাকে অনান্য রোগ ব্যধি নিয়ে। সেখানে ওই শিশু আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে। শিশুর তাই এখন দরকার কোন মায়ের কোল , মায়ের ভালোবাসা । নইলে সময়ে খাওয়া দাওয়া এবং অনান্য কাজকর্মের জন্য সব সময় একজন লোকের প্রয়োজন। কিন্তুু হাবড়া হাসপাতালে তা নেই। একজন করে নার্স ডিউটি করে শিশু বিভাগে। তার ভেতরে কতটুকু আর ওই শিশুর সেবা করা সম্ভব। শীতের প্রকোপে স্বাভাবিক ভাবে কোন মায়ের কোল পেলে শিশুটি আরো ভালো থাকতো। সবমিলিয়ে,
সরকারী উদাসীনতায় শিশুটির জীবন হাসপাতাল বেডে বন্দী।
নিয়ম মেনে যদি কোনও দম্পতি শিশুটিকে নেয় অথবা শিশুটির আসল মা এসে প্রমাণ দিয়ে শিশুটির লালন পালন করে তাহলে শিশুটি বাঁচতে পারে আদর যত্নে।
প্রসঙ্গত, অশোকনগর দুই নম্বর এলাকার দম্পতি গৌতম চন্দ্র এবং দীপা চন্দ্র বনিক তাদের এগারো দিনের শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবড়া হাসপাতালে আসার পর শিশুর জন্মের কাগজপত্র এবং কিছু নথি চাইলে বিপাকে পড়েন ওই দম্পতি । সাথে সাথে হাবড়া হাসপাতালের সুপারকে ঘটনার কথা জানান কর্তব্যরত ডাক্তার । এরপর পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছে তাদের ১৯ বছর বিয়ে হলেও কোন বাচ্চা ছিলনা তাদের। তাই তাদের এক আত্মীয় ভ্যান চালক বিশ্বনাথ বনিককে বলে একটি বাচ্চা জোগাড় করে দিতে ।সেই মত তিনি অশোকনগর রেল গেট সংলগ্ন চায়ের দোকানদার শিপ্রা ব্যাপারীকে বলে একটি শিশু যোগানের ব্যবস্থা করে দিতে। শিপ্রা অশোকনগর রেল গেট সংলগ্ন বনানী নার্সিং হোমের কেয়ার টেকার রনজিৎ দে কে ঘটনার কথা জানালে সে বলে ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
এরপর নার্সিং হোমের মালকিন রঞ্জিতা রায়ের সাথে কথা হয় রঞ্জিতের। এবং সেই মত এগারো দিন আগে কোয়াগ ডাক্তার মনোজ বিশ্বসকে দিয়ে এক অজ্ঞাত গর্ভবতীকে প্রসব করিয়ে ষাট হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে তুলে দেন ওই দম্পতির হাতে। ঘটনার পর গ্রেফতার হয় ক্রেতা বিক্রেতা সহ সহযোগীরা।



0 Comments