@ সত্যজিৎ চক্রবর্তী
মিটু হ্যাশ ট্যাগের দৌলতে প্রকাশ্যে এবং প্রচারের আলোয় এখন অন্ধকারের অনেক ঘটনা। ফেসবুকে সাবাস, ব্রাভো, শাস্তি চাই ইত্যাদি শব্দ বেশি ব্যবহার হচ্ছে। তবে মিটু কতটা সচ্ছ? মিটুও লিঙ্গ বৈষম্যের ঘাঁড়ে চড়েছে। শিশুরা যদি মিটু ব্যবহার করতে পারত তাহলে মহিলা মহল মনের বিভৎসতা দেখে অবাক হত প্রানী ও উদ্ভিদ মহল। আবার ধরুন, বৃদ্ধরা যদি সংসারের মহিলা রাজনীতি নিয়ে মিটু ব্যবহার করত তাহলে ভেঙে পড়ত সম্পর্কের বন্ধন।
একটা ছেলে শিশুর যৌনাঙ্গ বেশি আক্রান্ত হয় মহিলা মহলের মাধ্যমে। অনেকে বলবেন, আহা ওটা তো আদর করে। অত্ত ধরতে নেই। শিশুকালে কি অঙ্গের সাড়া থাকে না? আবার বাড়ির বৃদ্ধ পুরুষগুলোকে পাঠানো হয় দোকান বাজারে। রাস্তায় ধাক্কা, রোদের তেজ সহ্য করতে না পারা। মাথাটা ঝিমঝিম করা, বেপরোয়া যানের ছুটোছুটি দেখে মনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক বাড়ির মহিলাদের বোঝানো কঠিন। এসব বলতে গেলেই টিপ্পনী, খাবারে অবহেলা ইত্যাদি। খোদ সংসারের চেহারা যদি এটাই হয় তাহলে বাহিরে কি হবে?
মেয়েদের প্রতি পুরুষের আর পুরুষদের প্রতি মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক লোভ, বাসনা তো থাকেই। বরং পুরুষের তুলনায় মেয়েদের ইচ্ছেটা বেশিই হতে পারে। নায়ককে দেখে মেয়েরা চুমু, চেপে ধরা, জড়িয়ে ধরা হামেশাই দেখা যায়। কোনও নায়িকার সাথে পুরুষরা যদি এগুলো করে তাহলে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লিঙ্গ বৈষম্যের ধারা গুলো পরপর বসে যাবে। ছেলেদের চাহিদার লালসায় যদি মেয়েরা বিরক্ত বিব্রত হন তাহলে পুরুষদেরও হয়। কারণ, দুটো বিপরীত শরীরের স্পর্শে উত্তেজনা উভয়ের হয়। তা স্বাদ হোক বা বিস্বাদের।
কলেজের মেয়েরা ছেলেদের কান, কলার ধরা পেটে চিমটি কাটা, হাত ধরে চলে। এতে একটা ছেলের কি অবস্থা হয় তা যে মেয়েরা বোঝেনা তা নয়। বরং বুঝেই এই ব্যবহার গুলো করে মেয়েরা একদিকে স্বাদ অন্যদিকে ছেলেটিকে ইশারা করে বলা হয় সভ্য ভাবে যৌন স্বাদ নিতে ও দিতে। ইদানিং আবার গায়ের গন্ধ শুঁকে সেলফি সভ্যতা চালু হয়েছে।
সচেতন ভাবে গভীরে ভাবনা দৃষ্টি নিয়ে গেলে দেখা যাবে, কাদাটা ছুড়ছি নিজের দিকে। পুরুষ হোক বা নারী একান্তে অন্ধকারে সংসারে সকলেই কিছুনা কিছু করেছেন সকলেই। সবাই যদি প্রকাশ্যে আনে তাহলে তো সমাজটা আড়া আড়ি ভাগ হয়ে যাবে। চতুররা ডুবে ডুবে রস খাবে লেনদেনের অংকের লুডু খেলার বোর্ডে।
লিঙ্গ তো দূরের কথা শরীরের পশম গুলো সজাগ হয়ে ওঠে বিপরীতের টানে। মানলে বিজ্ঞ না মানলে চতুর বিজ্ঞ।
প্রাণী কুলে মানুষ হল একমাত্র প্রাণী যাদের মেটিং সিজন সারা বছর। সেখানে অঘটন না ঘটাই অঘটন।
মিটুর নেপথ্যে আছে বাদিকতা ও লাভক্ষতির এবং বদলা রাজনীতি। যৌন নির্যাতন সামাজিক ও সাংবিধানিক অপরাধ। এই অপরাধের সাথে মিটু মিশেল হল আদতে টার্গেট পলিটিক্স।


0 Comments